বিড়ালের মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া একাধিক কারণে হতে পারে, যা স্বাভাবিক ভাবেই কোন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হতে পারে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভয় এবং উদ্বেগ, দাঁতের রোগ, বিষাক্ত পদার্থের গ্রহণ এবং ভাইরাস সংক্রমণ। যখন বিড়াল ভীত বা উদ্বিগ্ন হয়, তখন তাদের মুখ থেকে অতিরিক্ত ফেনা বের হতে পারে। দাঁতের সমস্যা হলে যেমন ফেনা বের হতে পারে, তেমনি কিছু বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শেও একই প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিড়ালের মুখ থেকে ফেনা বের হওয়ার একাধিক সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। এটি স্বাভাবিক শরীরের কার্যক্রম থেকে শুরু করে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত, হালকা ফেনা বের হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া অবশ্যই চিন্তার । মুখ থেকে ফেনা বের হওয়ার কারণসমূহঃ ১. ভয়, উদ্বেগ, বা অত্যধিক উত্তেজনা ২. দাঁতের রোগ ৩. বিষাক্ত পদার্থের গ্রহণ ৪. অসুস্থতা (যেমন এপিলেপসি) ৫. ভাইরাস সংক্রমণ কেন বিড়ালের মুখ থেকে ফেনা বের হয় কখনও কখনও হালকা ফেনা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত ফেনা মুখ থেকে বের হওয়া গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। ১. ভয় যখন ফেনা বের হওয়ার সাথে অস্বাভাবিক আচরণ (যেমন লুকিয়ে থাকা, অতিরিক্ত গ্রুমিং, বা কাঁপা) করে থাকে, তখন আপনার বিড়াল সম্ভবত ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করছে। এই উদ্বেগ নতুন পরিস্থিতি, ট্রমা, বা অসুস্থতার কারণে হতে পারে। একটি নিরাপদ ও ভালো পরিবেশ প্রদান করা জরুরি। ২. দাঁতের রোগ দাঁতের রোগ, যেমন জিঞ্জিভাইটিস বা দাঁতের ক্ষয়, বিড়ালের মধ্যে সাধারণ। এটি তাদের খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমাতে পারে, যা ওজন হ্রাসের কারণ হতে পারে। দাঁতের রোগ হলে ফেনা বের হওয়া স্বাভাবিক। ৩. বিষাক্ত পদার্থের গ্রহণ বিষাক্ত কিছু পদার্থের গ্রহণের ফলে মুখ থেকে ফেনা বের হতে পারে। এটি বমি ও বমি ভাবের সাথে থাকতে পারে। আবার অনেকসময় আমরা তেলাপোকা মারার বা অন্যান্য পরজীবী মারা জন্য আমাদের বাসায় বিষ দিয়ে থাকি। এগুলো বিড়ালের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কোনোভাবে বিড়ালের সংস্পর্শে আসলে বিড়ালের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে এবং তারা তখন ফেনা তুলে বমি করে। ৪. ভাইরাস সংক্রমণ যদিও টিকাদান করা বিড়ালের মধ্যে রেবিসের সংক্রমণ অতি দুর্লভ, কিন্তু অন্য ভাইরাস সংক্রমণও ফেনা বের করার কারণ হতে পারে, যেমন ক্যলিসিভাইরাস। আপনার বিড়ালের মুখ থেকে ফেনা বের হলে কী করবেন যদি আপনি অতিরিক্ত ফেনা দেখতে পান, তাহলে এটি গুরুতর হতে পারে। অস্থির আচরণ, খাবার খাওয়ার অক্ষমতা, বা শরীর কাঁপানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনার পশুচিকিৎসক পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করবেন এবং বিড়ালের পরিবেশের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। চিকিৎসা দাঁতের রোগের জন্য দাঁতের পরিষ্কারকরণ হতে পারে, এবং গুরুতর রোগে দাঁত অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। বিষাক্ত পদার্থের ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন, যেখানে বিড়ালকে বমি করানো বা কার্বন ব্যবহার করা হতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে এবং যথাযথ চিকিৎসা করা হতে পারে। ফেনা বের হওয়া প্রতিরোধের উপায় বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিড়ালের স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিড়ালকে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন করতে দেবেন না। দাঁতের রোগ প্রতিরোধে বছরে ১/২ বার দাঁতের পরিষ্কার করা জরুরি। নিজে দাঁত ব্রাশ করা, বিশেষভাবে বিড়ালের জন্য প্রস্তুত করা পণ্য ব্যবহার করে, তাদের মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। বাসায় কোন বিষ দিলে আপনার বিড়ালকে অন্যত্র সরিয়ে রাখুন কিংবা বিড়ালের সংস্পর্শে যেন না আসে তা লক্ষ রাখুন।